Posts

অরিত্র দ্বিবেদীর গুচ্ছ কবিতা : ১৩ পার্বণ

Image
১৩ পার্বণ ১ ভালো আছো? উত্তরের অপেক্ষা করিনি। ২ খুঁটে খাব, জীবন! আমি তো পাখি নই। ৩ কালবৈশাখী কাঁপছিল দূরে  আমার হাতে ধরা ছিল কিছু আশুত পাতা। ৪ কাল ঘুমিয়েছ একমনে। তবে, স্বপ্নে কেঁপে কেঁপে উঠছিলে কেন? ৫ উদাসী হাওয়ার বিকেল। স্টেশনে একটাও লোক ছিলনা। ৬ শুকিয়ে গেছে, কাঁটার খোঁচা, বুকের দাগ "ডিপ্রেশনের বাংলা জানি, নিম্নচাপ!" ৭ তোমার কেনা বইয়ে মুখ ডোবালাম তুমি লাইব্রেরির দিকে উঠে চলে গেলে। ৮ জঙ্গলের মাঝে থমকে দাঁড়ালে; 'হ্যাঁ, আমিই ডেকেছি তোমায়'। ৯ খাটে কয়েকটা শব্দ ছড়িয়ে আছে। খাতায় লেখা শব্দদের দলে তোমার মুখটা হারিয়েছি। ১০ লেখা কবিতার ওপর শকুন এসে বসল। কবি একটা দীর্ঘশ্বাসে ellipsis বসালো। ১১ মানুষ চেনার বদ অভ্যাস আমার নেই, জানো? শুধু অ্যান্ডি ওয়ারহোলের ছবিতে তোমার একটা মুখ দেখেছি। ১২ কথার পিঠে কথা নয় অপেক্ষা লেগে থাকে। ১৩ মানুষ থেকে ছিটকে এসে আমি আর বাস্তবতা মুখোমুখি বসি। হাতে ধরে ওকে ভাবতে শেখাই। আমার কাঁধে মাথা রেখে, কান্নায় ভেঙে পড়ে ও। © অরিত্র দ্বিবেদী অঙ্কন : ঋতুপর্ণা খাটুয়া                  ...

ভালো থেকো নিশীথ অবশেষ— পর্ব ১০: জয়দীপ চট্টোপাধ্যায়

Image
ভালো থেকো নিশীথ অবশেষ— পর্ব ১০: জয়দীপ চট্টোপাধ্যায় 'একি! তুমি এখানে?' কাউকে অপ্রত্যাশিত ভাবে, অপ্রত্যাশিত স্থানে এবং সময়ে হঠাৎ দেখতে পেলে যা হয়। ঠিক এইভাবে একটা পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার জন্য কৃষাণু একেবারেই প্রস্তুত ছিল না। ক্লায়েন্ট ভিজিটে অন্য শহরে একাধিকবার গেছে। বিদেশী ক্লায়েন্টদের সঙ্গেও বিজনেস মিটিং-এ গেছে কোনো ডেলিভারি হেডের সঙ্গে। সব সময়ে সেসব সাক্ষাৎকারের গতি-প্রকৃতি যে খুব অনুকূল থাকে, তা নয়। কিন্তু এরকম কিছু ঘটবে... জানা থাকলে এখানে আসতই না কৃষাণু। একটা স্বাভাবিক দিন ক্রমে কেমন অস্বাভাবিক থেকে অস্বাভাবিকতর হয়ে উঠল। হঠাৎই রোদঝলমলে দিনে যেমন দুর্যোগ ঘনিয়ে আসে। কেন যে হঠাৎ কৃষাণুর এত বছর পর মনে হল চাকরির জন্য এই অফিসে অ্যাপ্লাই করার কথা! কাউকে না জানিয়ে... কারো সঙ্গে কনসাল্ট না করে ইন্টারভিউ দিতে চলে এলো। এমন হাইকের আর অনসাইটের প্রলোভন তো নতুন নয়! ক্যান্ডিডেটদের কেমন অস্বাভাবিক ভিড়... একটাই পদের জন্য? চেনা মুখও দেখা যাচ্ছে। সকাল থেকে এসে বসে আছে সবাই। স্ক্রিনিং আর প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও ভেতর থেকে মুখোমুখি সাক্ষাৎকারের ডাক আসেনি তাদের। কেউ কেউ ফাইল দিয়ে ম...

মহিউদ্দিন সাইফের গুচ্ছ কবিতা

Image
বঙ্গভাষা সংবাদ জাড়ের সন্ধ্যায় আগুন তাপার কালে জঙি বাউরির কাছে একদা বঙ্গলিপির কথা, শুনেছিলাম। অবাক্যি কালিহাঞ্জি সাঁঝ কাঁজি-আলোতে শুধু দেখা যাচ্ছে তাঁর মুখ বৃহদ্ধর্মবর্ণিত সেই গূঢ় নাক ও চোখ একটি আবহমণ্ডলকে রচনা করছে। লিপিকালের বঙ্গভাষায় একটি পদের ধূয়া তুললেন তিনি, বোঝালেন এ কদাপি অর্ধম্লেচ্ছ চর্যাগীতি নয় এর সাথে মিল আছে বায়ুরুৎম, পুষ্করশারী ও মহোরগ ভাষার কিছুকিছু এবং প্রাচীন পাখুড়ির লাহান ধ্বনি দিয়ে তিনি একটি ভাবকেও জাগালেন এভাবে মধ্যবর্তী বায়ুস্তর গাঢ় হয়ে একটি নীলাভতম দুনিয়া পয়দা হল মাঝের মান্দার আগুনকে চকিতে মনে হল জন্মপলের মিহির আর আমরা নীহারিকাপুঞ্জের মাঝে বসে আছি তবুও আমার গুমান আর যায় না কিছুতে বিভিন্ন অপূর্ণ বাক্যে তাঁর কাছে ভেদ জানতে চাইলাম বিবিধ কূটধ্বনি যা স্মরণে এল ব্যবহৃত হল একে একে অগত্যা, কথাপ্রসঙ্গে তিনি লাল্হ দেশ ও মহাস্থবির কালিকের কথা শোনালেন, একিন এল, তিনি সত্যই বঙ্গভাষায় কথা বলিতেছেন… --------------------- ধ্যান ভেঙে তোমার থেকে সরে ভাবি 'সাফাইরা'র ধ্যানে ডুবে যাব, তুমিও আচকা ব্যথা, অনহা সুফি থেকে বাউন-বালিকা হবে ফের, আর পায়ের নেউর রইবে পড়ে, প্রার্...

ভালো থেকো নিশীথ অবশেষ: ৯ম পর্ব — জয়দীপ চট্টোপাধ্যায়

Image
ভালো থেকো নিশীথ অবশেষ — ৯ম পর্ব   ‘যা,ফ্রেশ হো কর আ… লেডিজ ওয়াশ রুম ইজ দ্যাট ওয়ে…নট ব্যাড, ম্যানেজেবল।’ কথাগুলো অনশুকে বলতে বলতেই রাগিনীর পায়ের কাছে বেডের ওপর বসল টায়রা, হাতের ইশারায় দেখিয়ে দিল 'দ্যাট ওয়ে'টা কোন দিকে। অনশু এক মনে ফোনে কিছু টেক্সট করছিল, 'দ্যাট ওয়ে'-টা ও খেয়ালই করল না। টায়রার গলার আওয়াজ পেয়ে মাথা তুলে বলল ‘হুম?’ বেচারাকে দেখেই বোঝা যাচ্ছে, খুব চাপে আছে। টায়রা কিছুটা নিজের দায়িত্বেই মিথ্যে বলল ওকে, ‘অপ্রতিমদা সে বাত হুয়া, মৈনাক অ্যান্ড ভিভান আর  অন দি ওয়ে… সামওয়ান উড টেক আস ব্যাক টু দ্য রিসর্ট।’ - অওর রাগিনী? - বো ভি চলেগি না… গার্লস্‌ সব চলে যায়েঙ্গে! - হোয়াই ওনলি গার্লস্‌? - আই মিন, হম লোগ পহলে যায়েঙ্গে, দেন আদার্স উড ফলো। - তু কুছ ছুপা রহি হ্যায় না মুঝসে? হোয়্যার আর আদার্স? হোয়াই আর এভরিওয়ান সো কোয়েট? হোয়াই আর উই স্টিল হিয়ার? -শ্‌শ্‌... কাম ডাউন। রিল্যাক্স। অ্যায়সে প্যানিক করেগি তো ইট উড ডেফিনিটলি অ্যাফেক্ট ইয়োর হেলথ। - আই অ্যা নট প্যানিকিং... শিওর উই আর ইন সাম মেস... অওর বো তুঝে ভি পতা হ্যায়। ইউ আর জাস্ট ট্রাইনিং টু পেসিফাই মি নাও। - - দেখ...

আত্রেয়ী চক্রবর্তীর গুচ্ছ কবিতা

Image
গর্ভশোক    সে বিষাদকণাকে চাইনি আমরা বেলা বাড়লে বলেছি, 'ভেসে যাও' — তার হাতে দিইনি রাঙাযোগ, মা-বাবার স্নেহঋণ বরং প্রপঞ্চ-প্রপঞ্চ ডাকে কলহে মেতেছি দুইবেলা যেটুকু চলে যাওয়ায় কাঁদতে নেই, তাতে  কে যাবে ভেসে? আধফোটা পক্ষীশাবক, নহলি আঙুল ভবিষ্যজন্মশাখা; আর কে কে যায়?  ভিটেমাটি, শিকড়, জরায়ুনদীটি যার নাম এ নিঃস্ব দেহে একত্রে থাকার কথা জানি জানি, পিতাশব্দ শিউরে ওঠে — শিউরে ওঠে ঝলসানো বালিহাঁস আঁতুরসুগন্ধি, ঘ্রাণ… রঘুবংশ  অশ্বত্থ পেরচ্ছে ট্রেন, ধানের গোলা, অন্ন-বস্ত্র-কুলদেবতা জানালার পাশে কে ও বিরহী কান্তা  মেটেসিঁদুর গোধূলি তনয়া! সকালের হকার ডাক দেয় সোহাগ-সোহাগ দ্বিতীয়টি নগরমৃণাল, দেহজ বিজ্ঞাপনে আমি ঘরপোড়া ভিখারি — চোখ চলে যায় সিঁথির ভাঁজে স্থিরচিত্র, নিজেকে যাচি বেপাড়ার যুবক, তুমি উঁকি দিয়ে যাও বুকের ভিতর জেগে ওঠে নীলচে স্তন, আমিষস্পর্শ আমি স্নান সেরে নিই এই ফাঁকে; দেখি জল ঠেলে ডাক দিচ্ছ — "এসো মেয়ে, দু'কদম অসভ্যতা শেখাই!" শুভদৃষ্টি  প্রাচীন পাড়াটির গা ঘেঁষে দাঁড়াই — একচালা ঘর, নেভানো আলো পৌষের শীত এসে জড়াচ্ছে গায়ে, জড়িয়ে নিই রুহানি চাদর ব্যথাতুর শ...

শুভদীপ রায়ের গুচ্ছ কবিতা

Image
চিরায়ত   প্রতি নিঃশ্বাসে বিক্ষত করে, চিরুনি তল্লাশি থামিয়ে, যদি মেঝেভর্তি আঁকিবুঁকি স্পষ্ট করার চেষ্টা কর, তবে জেনে রাখো এই মুহূর্তে আমি বিদ্রোহ জানালাম। তোমার সব গন্ধ-বর্ণ-ছন্দ সবটুকু ভুলে যাওয়ার আগে আমাদের শেষবার দেখা হওয়া জরুরি ছিল; কিন্তু এই পার্থিব বীতরাগ আমি ঘৃণা করি আর ঘৃণা করি তোমার চুলের আড়াল পেরিয়ে- তোমার ঠোঁটের কাছে  পৌঁছানোর পথে সব বহুব্রীহি অনুজ্ঞা। তবু এসব নিরর্থক দৈন্য আমি বয়ে চলি রোজ, আর অবজ্ঞাপ্রতি একটি গোলাপচারা পুঁতে যাই পৃথিবীর বুকে, যাতে, তারা গোনার অছিলায় তোমার সন্ততিদের আমার স্পর্শটুকু স্বীকার করতে হয় প্রতিক্ষণ। শৃঙ্গার চোখে চোখ, আঙুলে আঙুল- শব্দময় পৃথিবীর দূরতম বাতিঘরে আলো নিভে এলে, ভালোবাসা নেমে আসে সমুদ্রের বুকে। যেটুকু আড়াল করে দিশাহীন স্বপ্নেরা মুড়ে ফেলে গোটা মহাকাশ, তার পাশে দেশকাল থমকে দাঁড়ায়; এলো চুলে এলোমেলো ভাবনারা লুকোবার ছলে ইশারায় ডেকে নেয় পূর্বকল্প শেষে, উপোসী বাঁশির শব্দে শ্রীমতীর মতো তারা ভুলে যায় শরীরী খেয়াল- সবটা গুলিয়ে গেলে আরেকটু আড়ালে, মুছে যায় পিছুটান যত… নৌকাবিহারে শুধু  নিষিদ্ধ চাঁদ আর চোখে চোখ...

সুন্দরবন কথা: প্রবন্ধ ২ — আঠারো ভাটির নাও

Image
আঠারো ভাটির নাও সময়ের বিবর্তনে আধুনিক যান্ত্রিক সভ্যতার ছোঁয়ায় বিলুপ্তির পথে আবহমান গ্রামবাংলার লোকসংস্কৃতি। হারিয়ে যাচ্ছে আঠারোভাটির নৌকা। হাতেগোনা দু'একটা চোখে পড়লেও জৌলুস কমেছে অনেকটাই। একসময় এই নৌকাকে কেন্দ্র করে কবি-সাহিত্যিকরা রচনা করেছিলেন কত গান, ছড়া, কবিতা, গল্প, পালা! কত সংসার ছিন্নভিন্ন হয়েছে নদীতে, নৌকায় নৌকায়।  "কে যাস রে ভাটি গাঙ বাইয়া আমার ভাইধন রে কইয়ো, নাইওর নিতো বইলা তোরা কে যাস কে যাস বছর খানি ঘুইরা গেল, গেল রে ভাইয়ের দেখা পাইলাম না, পাইলাম না কইলজা আমার পুইড়া গেল, গেল রে ভাইয়ের দেখা পাইলাম না, পাইলাম না" (মীরা দেব বর্মন) এখন তার খোঁজ রাখে ক'জন? ডিজেল চালিত স্যালো নৌকার ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে সব। কদর নেই মাঝি-মাল্লাদেরও। বিলুপ্তির পথে নৌবাইচ - নৌবাইচের শ্লোক:  "আটির গাঙে ভাটি চলে। সোঁদরবনে নৌকা চলে।। নৌকা চলে হাতের জোরে -  দরিয়ার পাঁচ পীর বদর বদর।।" কয়েকবছর আগেও মাছ ধরার ছোট নৌকা দাঁড়ে চলত। বর্তমান সময়ে সেটিও ইঞ্জিনচালিত। ইঞ্জিনের দৌরাত্ম্যে ক্রমান্বয়ে রোজগার কমেছে অনেক মাঝির। পরে পরে অন্য পেশায় নিযুক্ত হচ্ছেন তাঁ...