Posts

ভালো থেকো নিশীথ অবশেষ : পর্ব ১৫ — জয়দীপ চট্টোপাধ্যায়

Image
ভালো থেকো নিশীথ অবশেষ : পর্ব ১৫ যেখানে প্রশাসন, পুলিশ, রাজনৈতিক নেতা আর সমাজবিরোধীরা মিলেমিশে ঝালমুড়ির মত এক ঠোঙায় থাকে... সেখানে  আলাদা করে অপরাধ আর অপরাধীকে শনাক্ত করার ব্যাপারটাই খুব গোলমেলে হয়ে যায়। এই নিয়ে কোনো পলিটিকালি কারেক্ট স্ট্যান্ড নেওয়ার মানেই হয় না। আজকাল তো আর কিছু রাখঢাক নেই। লাইভ ক্যামেরার সামনেই বুক চিতিয়ে যা করার করে যায় লোকজন। প্রজন্মের পর প্রজন্ম অপরাধ করেও কারো বিরুদ্ধে কোনো এফআইআর অবধি হয়নি। কেউ ঠাকুর, কেউ ব্রাহ্মণ, কেউ মাহান্ত, কেউ জেলা প্রশাসক... একটা লাইসেন্স আছে এদের নিজের ইচ্ছে মত চলার। এবং আইনকে কাঁচকলা দেখিয়েই জীবন কাটিয়ে দেওয়ার। আগেও হত, এখন প্রকাশ্যে সমর্থন এবং বাহবাও জুটে যায়। বাস্তব থেকে সিনেমায় ওয়েব-সিরিজে উঠে এসে, অপরাধ আর অপরাধীরা মনোরঞ্জনের মালমশলা হয়ে গেছে। তাদের ভাষা আর কাজ-কর্ম দেখে হাসছে শহরের দর্শক। কানে বন্দুক ঠেকিয়ে কারো প্যান্ট ভিজিয়ে দেওয়া দেখে হাসি পাচ্ছে। থার্ড ডিগ্রি দেওয়া দেখে হাসি পাচ্ছে। ভুল সময়ে ভুল জায়গায় এসে পড়ে মার খাওয়া বা মরে যাওয়া দেখে হাসি পাচ্ছে। সবার ওপরে ক্ষমতাশালী পরিবারদের দাপট উজ্জ্বল হয়ে উঠছে চোখ-মুখ। ক...

ভালো থেকো নিশীথ অবশেষ : পর্ব ১৪ — জয়দীপ চট্টোপাধ্যায়

Image
ভালো থেকো নিশীথ অবশেষ : পর্ব ১৪ জমিদার বাড়ির এই অংশটি একটু অন্যরকম, অন্য দিকের অংশের থেকে চার-পাঁচ ধাপ সিঁড়ি বেয়ে নীচে নেমে আসতে হয়। একসময়ে নাকি গুমঘর ছিল। অথচ এখন রেনোভেট করে অন্যরকম করে দিয়েছে। দিনের বেলা এলেও একটা রহস্যের গন্ধ পাওয়া যায়, ঘরের দেওয়ালগুলো কেমন ঠান্ডা। এরা ইচ্ছে করেই অল্প পাওয়ারের আলো রেখেছে ঘরের এক একটি দেওয়ালে। ঘরটা এখন বদলে গিয়ে রিক্রিয়েশন রুমের মত করা হয়েছে। একদিকে ছোটো ফ্রিজে ঠান্ডা পাণীয় আর নানা রকম বিয়ার, তালা বন্ধ থাকে। সার্ভিসে থাকা স্টাফদের বললে অর্ডার মত আনিয়ে দেয়। আর একদিকে বসে থাকার মত কাউচ, বেতের চেয়ার, ছোটো টেবিল। বইয়ের তাকে পাতলা পাতলা কিছু বই। দুটো কাঠের দাবা খেলার টেবিল-বোর্ড, যেখানে চা-কফির কাপও রাখা যায়। কার্ড গেম খেলারও ব্যবস্থা আছে। অল্পসংখ্যক কিছু জনের এক বিচ্ছিন্ন রিক্রিয়েশন রুমের মত, কিংবা coquette's lounge। কিন্তু নো-স্মোকিং জোন। এসির মাধ্যমে ঘরের তপ্ত বাতাস বাইরে বার করে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আসলে ঘরটায় ঢোকার একটাই দরজা, কোনো জানলা নেই। অন্য কোনো দরজাও নেই। ঘরের  ছাদটাও তুলনায় একটু খাটো।        অতিথিদে...

অনিন্দ্য সরকারের গুচ্ছ কবিতা : গান ছুঁয়ে ছুঁয়ে

Image
গান ছুঁয়ে ছুঁয়ে           ১.তোমার আনন্দ আমার পর      ‘তাই তোমার আনন্দ আমার পর' এ কথা বলে তুমি থেমে গেলে। সেই থেকে তানপুরার মতো সুর তুলে কেটে যাচ্ছে দিন চাঁদের থেকে ঝরে পড়ছে রাত। এমনকি অমাবস্যার ঘোর অন্ধকারে আমার দুঃখরা সব বেমালুম জোনাকির ভাষ্য শিখে নিল।  আমার মধ্যে যে আমি তাকে তুমি ভালোবাসার আসন পেতে বসিয়ে রেখেছো তোমার পাশে। ২. শূন্য এ বুকে      আমি দুঃখ আড়াল করতে পারি না কষ্টপাথরকে চেপে রেখে ক্ষয়ে ক্ষয়ে নিঃশেষ করতে পারি নি কোনোদিনই..  দীর্ঘশ্বাসে হাহাকার উঠে আসে।  তখনই কে যেন গেয়ে যায় ‘শূন্য এ বুকে পাখি মোর আয় ফিরে আয়' আমি চিৎকার করে কেঁদে উঠি ঠিক যেন নজরুলগীতি।  ৩. আমি অকৃতি অধম      রাত গভীর হলে আমরা ব্যস্ত হয়ে উঠি চাওয়া-পাওয়ার হিসেব করতে বসি পাওয়ার চেয়ে চাওয়ার পাল্লা ভারী হয়ে ওঠে।  হিসেব মিলতে চায় না কিছুতেই।  হঠাৎ জোৎস্নার আলো গায়ে এসে পড়ে শীতল হাওয়া যেন মনকে শান্ত করে দেয় ঠিক তখনই রজনীকান্তের গান মনে পড়ে ‘আমি অকৃতি অধম বলেও তো কিছু কম করে মোরে দাওনি...

ভালো থেকো নিশীথ অবশেষ — পর্ব ১৩ : জয়দীপ চট্টোপাধ্যায়

Image
ভালো থেকো নিশীথ অবশেষ -- পর্ব ১৩     'আরে দেখ কে!... কেয়ারফুল ইয়ার!' গ্লাসটা পড়ে ভেঙে যেতে, আর কাচগুলো সশব্দে টুকরো টুকরো হয়ে ছড়িয়ে যেতে যতটা সময় নিল, তারই মাঝে প্রতিক্রিয়াবসতঃ চেঁচিয়ে উঠে পড়ল প্রাজক্তা। আড়ষ্ট হয়ে একজায়গায় দাঁড়িয়ে তখন অন্তরা, ওর হাতে জলের জাগটা কাঁপছে। পায়ের কাছে ছিটকে এসেছে ভাঙা কাচের টুকরো। 'ওখানেই দাঁড়িয়ে থাক, নড়লেই পায়ে কাচ ফুটে যাবে!', কথাগুলো বলতে বলতে খাট থেকে নেমে এগিয়ে এসে ওর হাত থেকে জলের জাগটা নিয়ে নিল ব্রততী। তারপর অন্তরার একটা হাত ধরে আসতে আসতে দু-পা পেছন দিকে নিয়ে এলো, খাটের দিকে। ভালো করে তাকিয়ে দেখল ঘরের কোথাও কাচ পড়ে আছে কি না। 'যা তুই খাটে গিয়ে বস, কিচ্ছু হয়নি। এত চাপ নেওয়ার মত কিচ্ছু হয়নি।' বলে ওকে একরকম হাত ধরে টেনে খাটের দিকে সরিয়ে নিয়ে এল ব্রততী, তারপর নিজে সাবধানে মেঝেতে বসে দেখার চেষ্টা করল পড়ে থাকা কাচের টুকরোগুলো। যতগুলো বড়ো কাচের টুকরো চোখে পড়ে চটপট তুলে নিল সাবধানে। 'দেখ কে, তু র‍্যাহে নে দে... লেট মি কল আ ফেসিলিটি হেল্প।' বলে প্রাজক্তাও উঠে পড়ল। ব্রততী হাতের ইশারায় ওকে বসতে বলে এদিক ওদিক থেক...

ভালো থেকো নিশীথ অবশেষ —পর্ব ১২ : জয়দীপ চট্টোপাধ্যায়

Image
ভালো থেকো নিশীথ অবশেষ: পর্ব ১২ - কী ব্যাপার, ফোন তুলছিলে না কেন? - আরে চোখ লেগে গেছিল... বুঝতে পারিনি। - চোখ লেগে গেছিল মানে? তোমেক কি এমনি এমনি পাঠালাম ওখানে? - - যাক গে! এখন কী সিন বলো। - খুব একটা ভালো মনে হচ্ছে না। - মানে? - মানে, একটু আগে কথা কাটাকাটি হচ্ছিল... একটা মেয়ে একা বেরিয়ে যাচ্ছিল নার্সিং হোম থেকে। - কে বেরিয়ে যেতে চাইছিল? কী বলছ ঠিক করে বলো! - আরে অন্য মেয়েটা, রোগা মত যেটা। - যে অজ্ঞান হয়ে গেছিল তার কী অবস্থা? - বুঝতে পারছি না ঠিক, এখনো তো ভেতরেই আছে। - মানে? তুমি ভেতরে থাকছ না? - গেছিলাম তো বার দুয়েক, তোমাকে তো জানালাম তখন। - তাহলে? থাকতে দিচ্ছে না নাকি? - না... ডাক্তারই বেশি লোক ঘরে থাকতে দিচ্ছে না। - ঘরের ভেতর থাকতে হবে না, নার্সিংহোমের ভেতরে থাকো। চোখে চোখে রাখো... এত করে বলে দিলাম, এত বার বুঝিয়ে দিলাম... কী যে করছ গিয়ে! এর চেয়ে আমি নিজে গেলেই ভালো হত। ধোর! - আমি যাচ্ছি এখন একবার। জানাচ্ছি তোমাকে। - দয়া করে ওদের সামনে ফোন করো না। - আচ্ছা - আর শোনো... - কী? - কতটা সিরিয়াস কেস জানিও। অন্য গেস্টরা আছে। চাপ হয়ে যাবে সকালে ব্যাপারটা অন্য দিকে গেলে। - ঘাপলা তো ...

চকোলেট কথা : সোহম ভট্টাচার্য্য

Image
চকোলেট কথা   অতীতের চকোলেটের সঙ্গে আজকের দিনের চকোলেটের মিল খুবই কম । ইতিহাস জানান দেয়, অতীতে চকোলেট কোন মিষ্টি ও ভক্ষণযোগ্য নয়, বরং ছিল তিতা স্বাদের উৎসবের পানীয় । প্রাচীন মায়া সভ্যতায় যুগেও ছিল চকোলেট এর অস্তিত্ব । এমনকি তারও আগে, দক্ষিণ পূর্ব মেক্সিকোর প্রাচীন ওলমেক সভ্যতায় এর প্রচলন ছিল বলে খাদ্য ইতিহাস বিশেষজ্ঞদের মত । ‘চকোলেট’ শব্দটা শুনলেই মিষ্টি, ক্যান্ডি, বার ও মনোরম মিষ্টান্নের ছবি চোখে ভেসে ওঠে । তবে সুদূর অতীতের চকোলেটর সঙ্গে আজকের কোনও মিলই নেই । ইতিহাস জানান দেয়, কোকো নামের গাছের গুটি গুটি ফলগুলোর এক একটিতে প্রায় চল্লিশটির মত ‘বিন’ বা ‘শুঁটি’ থাকে যেগুলো পুড়িয়ে কোকো বিন তৈরি হতো।  যুক্তরাষ্ট্রের স্মিথসোনিয়ার ন্যাশনাল মিউজিয়াম এর কালচারাল আর্ট কিউরেটর হায়েস লাভিস জানান, খ্রীষ্টপূর্ব ১৫০০ থেকেই প্রাচীন ওলমেক সভ্যতার মানুষেরা নৌ যান ভরে কোকো ফল নিয়ে আসতেন ।  ধারণা করা হয়, ওলমেকরা, তাঁদের ধর্মীয় উৎসবে কোকো বিনগুলি সাজিয়ে রাখতেন দেবতার প্রতীক বা (totem) এর সামনে । মায়া সভ্যতায় ওলমেকরাই সম্ভবত এই কোকোর ব্যবহারকে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন । ...

সহেলী সেনগুপ্তের অণুগদ্য গুচ্ছ

Image
একে তো ফাগুন মাস, দারুণ সময়... ফেব্রুয়ারি হাওয়ায় মনটা বসন্তবৌরি হয়ে যায় কেমন ঝুপুস করে। খোলামকুচির মতন, শিমুলতুলোর মতন, পায়রার পালকের মতন হাল্কা হয়ে গিয়ে দমকা হাওয়ায় উড়তে থাকে বেমক্কা। লাগাম পরে না কিছুতেই। কাজ করে না কিচ্ছুটি। অদৃশ্য খোঁপায় কল্কে ফুল গোঁজে। আলো-আঁধারি গলিতে উপুড় করে ঢালে মুঠোরোদ্দুর। আকাশনীল, আর শ্যাওলা সবুজ, আর মেঠো মেটে রংসাজের কবিতার নতুন বইয়েদের ওমে মুড়ে রাখে নিজেকে। গত শীতে যে তাকে ভেঙে ফেলেছিল, দুমড়ে ফেলেছিল, উপড়ে ফেলেছিল প্রায়, তাকে একফালি নতুন শিকড় ধার দিয়ে আসে হাসতে হাসতে। তার অরণ্যপ্রাণে যে শুধু কুঠার বিছিয়ে দিয়ে গেছে, তাকে নিঃশেষে ক্ষমা করে দেয়। ঈশান কোণ থেকে ধেয়ে আসা নিম্বাসমেঘের মত ওজনদার আঘাত তার পথে বিছিয়ে দিয়েছে যারা, তাদের মনে করিয়ে দেয় যীশুর ডাকনাম। পঙ্কিল জলে দাঁড়িয়ে যারা কাদা ছোঁড়ে ক্রমাগত, তাদের অনতিদূরে রেখে যায় ভোরের বেলার ফুল। আয়ুরেখা ধরে হাঁটতে থাকা যে বিগতযৌবন, ক্লান্ত রাজপুত্র তার অভিশাপসমান অমরত্বের বর ফিরিয়ে নেওয়ার প্রার্থনা করে রোজ ঈশ্বরের কাছে, তার বলিরেখায় ভরা বিষণ্ণ হাতে দেয় কোনো এক দুঃখী রাজকন্যার কবরের উপর ফুটে থাকা বেগনি...